চ্যানেল ওয়ার্ল্ড নিউজ রাউন্ড থেকে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ। আমাদের আজকের বিষয় প্রাণঘাতী নভেল কোভিড১৯ বা করোনা ভাইরাস। আজ প্রচারিত হবে এর প্রথম পর্ব। কয়েকটি পর্বে প্রতি সপ্তাহে ওয়ার্ল্ড নিউজ রাউন্ডে থাকবে এ নিয়ে চ্যানেল এইটের উপস্থাপনা।

 

নভেল কোভিড ১৯ বা করোনা ভাইরাস একই সাথে যেমন মারণব্যাধী, ভয়াবহ, দ্রুত সংক্রমিত হয় মানুষ থেকে মানুষে, তেমনি এর কোন প্রতিষেধক এখন পর্যন্ত আবিষ্কারে সারা বিশ্ব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, পাবলিক হেলথ ইন ইংল্যান্ড সকলেই হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে এই রোগ এর সঠিক জিন নির্ণয়ে বিজ্ঞানীরা বলা যায় হিমশিম খাচ্ছেন।

পানি যেমন গ্লাসে রাখলে তার আকার ধারণ করে, তেমনি করোনা ভাইরাসও দিনে দিনে যখন যেখানে যেমন তেমনি জিন পাল্টাচ্ছে, হয়ে উঠছে আরো ভয়াবহ।

 

এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৬৪টি দেশ নভেল করোনা তার ছোবল মেরেছে এবং    আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওমিটারস ডট ইনফোর হিসাব অনুযায়ী এই মুহুর্ত পর্যন্ত সাত হাজারের উপরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করেছেন। আক্রান্তের সংখ্যা ছিল লাখ ৮২ হাজারের ৬০০এর বেশি। এছাড়া চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছে আরো প্রায় ৮০ হাজার মানুষ।

 

প্রিয় দর্শক মারণঘাতী ভাইরাসের কবলে বিশ্ব পতিত হওয়া নতুন কিছু নয়। ১৯১৮ থেকে ২০ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানডেমিকে ৫০ মিলিয়ন লোক মারা গিয়েছিলেন। ১৯১০-১৯১১ সালের কলেরার প্রাদুর্ভাবে ৮০০ হাজার লোক মারা গিয়েছিলেন। ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ সালের ব্ল্যাক ডেথ ইউরোপে ২০০ মিলিয়ন লোক নিহত হয়েছিলেন। ৫৪১ থেকে ৫৪২ এর বাইজান্টেনিয়ান রাজ্যে জাস্টিনিয়ান প্ল্যাগে ২০০ মিলিয়ন লোক মারা গিয়েছিলেন, আবার  তখন প্রচলিত মিথ পরবর্তীতে জানা গিয়েছিলো, আজকের  শক্তিধর দেশ তার নিরীক্ষা চালানোর জন্য ভাইরাসের পরীক্ষা রাতের আধারে হাজার মাইল দূরে এসে সেন্ট মার্টিনের একটি পুকুরে চালিয়েছিলেন, যার ভাইরাসের বিস্তারে  ১৯৫৬-৫৮ এশিয়ান প্যানডেমিক ফ্লুতে দুই মিলিয়ন লোক মারা গিয়েছিলেন।

 

প্রশ্ন হলো-কোথা থেকে করোনা এসেছে, ফেসবুক ইউটিউব নানা মত, নানা তর্ক বিতর্ক যেমন চলছে, একাডেমিক এভিডেন্স এখন পর্যন্ত এর কোন সুরাহা দেয়ার সময় যেমন আসেনি, তেমনি সময়ের ব্যবধানে সেই সুযোগও এখন পর্যন্ত একাডেমিকদের হয়নি।

 

সিএনএন, বিবিসি, স্কাই, আল জাজিরা, গার্ডিয়ান, নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য হিন্দু, সৌদি গেজেট, টেলিগ্রাফ সহ সব বড় বড় মিডিয়া আউটলেট ঘাটলে এ নিয়ে রয়েছে বিস্তর ফারাক এবং ভিন্ন ভিন্ন তথ্য ও তত্বের সমাহার, যা সাধারণতঃ ভাইরাসটি নতুন হওয়াতে একাডেমিক এভিডেন্স নির্ভর তথ্যের অভাব স্বভাবতঃই পরিলক্ষিত হয়।

 

যে কারণে নানা গুজব বিভ্রান্তি সহজে নানা মাধ্যমে জারমুনির ফ্যানার ন্যায় বুদ বুদ করে ছড়াচ্ছে।

আর এই সুবাধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করোনা ভাইরাস নিয়ে চায়নাকে দোষারোপ করছে, চায়না দোষারোপ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। এই দুই ট্রেড ওয়ারের প্রত্যক্ষ শক্তিধর রাষ্ট্রীয় যোদ্ধাদের একে অন্যকে দোষারোপের সুবাধে আমরা দুই ধরনের তথ্য ও থিওরীর মুখোমুখী হই কিন্তু নভেল কোভিড ১৯ উতপত্তি নিয়ে সরলীকরণ করতে ব্যর্থ হই।

 

মজার,ব্যাপার হলো  সারা বিশ্ব যখন থমকে গেছে, ইটালি, গ্রেট ব্রিটেন, স্পেন, ফ্রান্স, সৌদি আরব, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গালফ সাম্রাজ্য, সিঙ্গাপুর,ইরান, মালয়েশিয়া, সুদান,  যখন লকডাউন, সারা বিশ্বের এয়ারলাইন্স বাণিজ্যে যখন ধবস নামা শুরু হয়ে যায়, সাইন্টিস্টরা যখন মরিয়া ভাইরাসকে রুখে দিতে এর জিন আবিষ্কারে দিন রাত খেটে চলেছেন, তখন বিশ্বের আরেক শক্তিধর দেশ রাশিয়া এবং ভ্লাদিমির পুতিন একেবারেই নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করে চলেছেন, যা অনেকের কাছে বিস্ময়ের। মস্কোতে এখন পর্যন্ত ভাইরাসের ছোবলের সংবাদের চেয়ে পুতিনের ফের দীর্ঘমেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার বিলের সংবাদই যেন শিরোনাম হয়ে বার বার মস্কো হয়ে বিশ্ব চষে বেড়াচ্ছে। ইসরাইল তার মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চরম বেদনার সময়ে কেন জানি এক দূরত্ব  বজায় রেখে চলছে। বিশ্বের তাবদ মারনাস্র নিয়ে নাক গালালেও ইসরাইল কোভিড ১৯ নিয়ে রাশার মতোই বক্তব্য বিবৃতি থেকে নিরব থাকছে। আবার গার্ডিয়ান, গ্লোবাল টাইমস, জাপান টাইমস, ওয়াশিংটন পোষ্ট, ইকোনোমিষ্ট এর মতে, সৌদি আরব কর্তৃক তেলের মূল্য বৃদ্ধি ট্র্যাম্প প্রশাসন, অপেক, গালফ, রাশিয়া, ব্রিটেন ইউরোপ, চীন, ইরানকে নতুন এক তেল্র বাজারের প্রতিযোগিতা ও বাণিজ্য যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিবে, যা সৌদি কতোটুকু সামাল দিতে পারবে তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। পাশের দেশ ভারত সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ শ্রীলংকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও মায়ানমার থাকছে ভাইরাসের ভৌগলিক সীমারেখার বাইরে-যা অংকের জটিল হিসেবকেও কষাঘাত করে। এই চার  তথ্য ও তত্বের সমারোহের জন্য আমাদেরকে আরো কিছুটা সময় কোভিড ১৯ নিয়ে আরো কিছু তথ্য রিসার্চের প্রয়োজন পড়বে। কোভিড ১৯ বিশ্ব অর্থনীতিকে যেমন অলট পালট করে তুলবে, তেমনি নতুন এক বাণিজ্য যুদ্ধ অস্র বাণিজ্যের যুদ্ধকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে এখনি অনেকেই শংকিত এবং উদবিগ্ন।

এই পাচ মিথ ও শ্রেণীর উপাদানের বিপরীতে মুসলিম থিওরী অনুযায়ী আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে যেমন বান্দাদের পরীক্ষার জন্য করোনার আবির্ভাব হয়েছে, তেমনি ইউটিউবে এর কিছু অপব্যাখ্যায় নানা রঙের ফানুসে সাধারণের মধ্যে কিছু বিভ্রান্তিরও জন্ম দিচ্ছে।

আশার কথা সংশ্লিষ্ট এবং আক্রান্ত দেশসমূহ দেরীতে হলেও অনেক সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়ে এই মারণব্যাধীর হাত থেকে জনগনকে সুরক্ষা করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

প্রিয় দর্শক করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় পর্বে আগামী সপ্তাহে এর বাকী অংশের জন্য চ্যানেল এইটের সাথে থাকবেন আশা করি। সেই পর্যন্ত ভাল থাকুন, নিয়মিত হাইজিন মেনে চলুন, বার বার হাত পরিষ্কার রাখুন, নিজে সচেতন হউন, অপরকেও সচেতন হতে সাহায্য করুন। আল্লাহপাক আপনার আমার সকলের মঙ্গল করুন, আল্লাহ হাফেজ ।

World News Round:Corona Virus(Episode 01)

মারণঘাতী ভাইরাসের কবলে বিশ্ব পতিত হওয়া নতুন কিছু নয়। ১৯১৮ থেকে ২০ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানডেমিকে ৫০ মিলিয়ন লোক মারা গিয়েছিলেন। ১৯১০-১৯১১ সালের কলেরার প্রাদুর্ভাবে ৮০০ হাজার লোক মারা গিয়েছিলেন। ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ সালের ব্ল্যাক ডেথ ইউরোপে ২০০ মিলিয়ন লোক নিহত হয়েছিলেন। ৫৪১ থেকে ৫৪২ এর বাইজান্টেনিয়ান রাজ্যে জাস্টিনিয়ান প্ল্যাগে ২০০ মিলিয়ন লোক মারা গিয়েছিলেন, আবার তখন প্রচলিত মিথ পরবর্তীতে জানা গিয়েছিলো, আজকের শক্তিধর দেশ তার নিরীক্ষা চালানোর জন্য ভাইরাসের পরীক্ষা রাতের আধারে হাজার মাইল দূরে এসে সেন্ট মার্টিনের একটি পুকুরে চালিয়েছিলেন, যার ভাইরাসের বিস্তারে ১৯৫৬-৫৮ এশিয়ান প্যানডেমিক ফ্লুতে দুই মিলিয়ন লোক মারা গিয়েছিলেন।

Posted by London Times-Salim Ahmed on Tuesday, March 17, 2020